• ৫ ভাদ্র ১৪৩৩, সোমবার ২৪ আগস্ট ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Amit Shah

দেশ

ছাত্র আন্দোলনের পর নতুন রাজনৈতিক ঝড়! অমিত শাহকে কড়া চিঠি রাহুলের, কী লিখলেন?

ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম দাবি ছিল কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। শনিবার তিনি পদ ছাড়ার পর রাজনৈতিক বিতর্ক নতুন মোড় নিয়েছে। রবিবার সকালে নিজের সমাজমাধ্যমে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে লেখা একটি চিঠি প্রকাশ করেন রাহুল গান্ধী। চিঠিতে তিনি বিশে জুলাইয়ের ছাত্র আন্দোলনের সময় প্রতিবাদকারীদের উপর বলপ্রয়োগের অভিযোগ তুলে একাধিক প্রশ্ন করেছেন।রাহুল গান্ধীর দাবি, নিট প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে সংসদ অভিযানের সময় শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীদের উপর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করা হয়। তাঁর অভিযোগ, কয়েক জন আন্দোলনকারী আহত হন এবং চিকিৎসার নথিতেও আঘাতের উল্লেখ রয়েছে। যদিও দিল্লি পুলিশ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ঘটনার তদন্তও চলছে।চিঠিতে রাহুল গান্ধী অমিত শাহের কাছে দুটি প্রশ্ন তোলেন। প্রথমত, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ছররা ব্যবহারের অনুমতি কে দিয়েছিল? দ্বিতীয়ত, সাধারণ পোশাকে যাঁরা আন্দোলনকারীদের মারধর করছিলেন, তাঁরা কারা এবং তাঁদের দায়িত্ব কে দিয়েছিল? তাঁর দাবি, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব ছিল।এর আগে এক আহত আন্দোলনকারীকে সংবাদমাধ্যমের সামনে এনে রাহুল দাবি করেছিলেন, তাঁর শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। সেই ঘটনার উল্লেখ করেই এবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন তিনি।অন্যদিকে, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগকে স্বাগত জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর বক্তব্য, দেশের স্বার্থ এবং ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ যে কোনও রাজনৈতিক পদের চেয়ে বড়। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, কিছু দেশবিরোধী শক্তি ছাত্র আন্দোলনকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছিল। তবে রাহুল গান্ধী সেই বক্তব্যের বিরোধিতা করে কেন্দ্রের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ফলে শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার পরও এই ইস্যুতে রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।

জুলাই ২৬, ২০২৬
কলকাতা

অমিত শাহ উদ্বোধন করবেন ‘শব্দলোক’! বেলভেডিয়ার হাউসে কী এমন আছে, জানতে মুখিয়ে কলকাতা

ভারতের ভাষা ও সাহিত্যিক ঐতিহ্যকে এক ছাদের তলায় তুলে ধরতে কলকাতার জাতীয় গ্রন্থাগারে উদ্বোধন হতে চলেছে দেশের প্রথম ভারতীয় ভাষা বিষয়ক জাদুঘর শব্দলোক। রবিবার ঐতিহাসিক বেলভেডিয়ার হাউসে এই জাদুঘরের উদ্বোধন করবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা কেন্দ্রীয় সংস্কৃতিমন্ত্রী গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াত এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর।২০২০ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই জাদুঘরের ঘোষণা করেছিলেন। ভারতের বহুভাষিক ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ ও নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরাই এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য। জাদুঘরে দেশের ২২টি ভাষার ইতিহাস, লিপি, সাহিত্য এবং মৌখিক ঐতিহ্যের বিবর্তন তুলে ধরা হবে।বেলভেডিয়ার হাউসের প্রথম ও দ্বিতীয় তলার একটি বড় অংশ জুড়ে গড়ে উঠেছে শব্দলোক-এর প্রথম পর্যায়। সংস্কৃতি মন্ত্রকের অধীনে জাতীয় গ্রন্থাগার প্রায় ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে এই কাজ সম্পন্ন করেছে। পুরো প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় প্রায় ৪১ কোটি টাকা। ভবিষ্যতে জাদুঘরটি আরও সম্প্রসারিত হবে এবং ভবনের গায়ে লাইট অ্যান্ড সাউন্ড শো-এর ব্যবস্থাও করা হবে।জাদুঘরে থাকবে মোট নয়টি গ্যালারি। সেখানে ভাষার হাজার বছরের যাত্রা, লিপির ক্রমবিকাশ, পাণ্ডুলিপি, মুদ্রিত বই, মৌখিক ঐতিহ্য এবং আধুনিক ডিজিটাল পাঠের ইতিহাস তুলে ধরা হবে। দর্শকেরা জানতে পারবেন, কীভাবে ভাষা সমাজকে গড়ে তোলে এবং সমাজের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নিজেও বদলে যায়।শব্দলোক-এ প্রদর্শিত হবে বহু অমূল্য ঐতিহাসিক নিদর্শন। এর মধ্যে রয়েছে প্রাচীন তাম্রলিপি, অষ্টাদশ শতকের রাগিনী আসাবরী চিত্রকর্ম, হিতোপদেশ, ইনশা-ই-গালিব, পৃথ্বীরাজ রাসো-র পাণ্ডুলিপি, সমাচার দর্পণ, অরুণোদয় এবং হরপ্পা সভ্যতার সিলমোহরের প্রতিরূপ। পাশাপাশি থাকবে পুরনো লেটারপ্রেস ছাপাখানার যন্ত্র, প্রাচীন মুদ্রা, মুখোশ ও পুতুল।আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে এই জাদুঘরকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলা হয়েছে। অগমেন্টেড রিয়্যালিটি, ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি, গ্রাফিক ওয়াল এবং অডিও-ভিজ্যুয়ালের মাধ্যমে দর্শকেরা ভাষার জগতে এক নতুন অভিজ্ঞতা পাবেন। পূর্ণাঙ্গ রূপ পাওয়ার পর ছাত্রছাত্রীদের জন্য বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থাও রাখা হবে বলে জানা গেছে।

জুলাই ১৯, ২০২৬
দেশ

শেষ মুহূর্তে বড় সিদ্ধান্ত! মোদীর মন্ত্রিসভা নিয়ে রাতের বৈঠকেই বদলে গেল সব সমীকরণ

কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় বড় রদবদল হতে পারে বলে কয়েক দিন ধরেই জোর আলোচনা চলছিল। বাংলা থেকেও নতুন মুখ মন্ত্রিসভায় জায়গা পেতে পারেন বলে নানা জল্পনা ছড়িয়েছিল। তবে আপাতত সেই সম্ভাবনায় ইতি টানল বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। জানা গিয়েছে, এখনই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় কোনও পরিবর্তন করা হচ্ছে না। আপাতত দলের সাংগঠনিক রদবদলেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।বুধবার প্রথমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসভবনে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠক হয়। পরে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনেও দীর্ঘ বৈঠক চলে। সেখানে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সাংগঠনিক প্রস্তুতি এবং আগামী দিনের পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বৈঠকের পরই সিদ্ধান্ত হয়, এখনই মন্ত্রিসভায় কোনও রদবদল করা হবে না।এর অন্যতম কারণ আগামী সংসদ অধিবেশন। খুব শীঘ্রই অধিবেশন শুরু হচ্ছে। এই সময়ে নতুন মন্ত্রীদের দায়িত্ব দিলে তাঁদের পক্ষে অল্প সময়ের মধ্যে নতুন দপ্তরের কাজ পুরোপুরি বুঝে সংসদে উত্তর দেওয়া কঠিন হতে পারে। তাই অধিবেশন চলাকালীন কোনও প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি না হোক, সেই কারণেই আপাতত মন্ত্রিসভার পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হয়েছে।অন্যদিকে দলের সাংগঠনিক রদবদল দ্রুত শেষ করতে চাইছে বিজেপি। নতুন সভাপতির নেতৃত্বে এখনও পুরনো কমিটিই কাজ করছে। তাই কেন্দ্রীয় স্তরে নতুন কমিটি গঠন এবং বিভিন্ন পদে নতুন দায়িত্ব বণ্টন নিয়েই এখন বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সূত্রের খবর, আগামী কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখেই সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।রাজনৈতিক মহলের মতে, সাংগঠনিক রদবদল সম্পূর্ণ হওয়ার পরই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। কারণ, কয়েক জন বর্তমান মন্ত্রীকে সংগঠনের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে এবং তাঁদের জায়গায় নতুন মুখকে মন্ত্রিসভায় আনার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জল্পনা চলছে।

জুলাই ১৬, ২০২৬
কলকাতা

কলকাতায় অমিত শাহ, ভার্চুয়ালি মোদী! শ্যামাপ্রসাদকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যে তীব্র রাজনৈতিক জল্পনা

শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে কলকাতার অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি বক্তব্য রাখলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মিলন মেলায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি। সেখান থেকেই দেশের উদ্দেশে বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী।বক্তব্যের শুরুতেই নরেন্দ্র মোদী বলেন, আজ গোটা দেশ শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে। তাঁর আদর্শ, চিন্তাধারা এবং দেশগঠনের ভাবনা আজও কোটি মানুষের কাছে প্রেরণার উৎস। নতুন সংকল্প নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার পথ তিনি দেখিয়ে গিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।কলকাতার এই অনুষ্ঠান থেকে মোদী বলেন, রাষ্ট্রবাদী সরকার থাকলে দেশের মহান নেতাদের যথাযথ সম্মান দেওয়া হয় এবং তাঁদের আদর্শ অনুসরণ করেই সরকার পরিচালিত হয়। তাঁর দাবি, গত দুই বছর ধরে দেশজুড়ে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মজয়ন্তী বিশেষ মর্যাদার সঙ্গে পালন করা হচ্ছে। পাশাপাশি তিনি বলেন, বাংলায় সরকার পরিবর্তনের পর এই উদ্যাপন আরও বড় আকারে হচ্ছে।প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবন শুধু একজন নেতার জীবন নয়, এটি একটি জনআন্দোলনের অনুপ্রেরণা। তাঁর চিন্তাধারা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন দিশা দেখিয়েছিল। যে সময় জনসংঘ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, তখন চারদিকে কংগ্রেসের প্রবল প্রভাব ছিল। সেই কঠিন পরিস্থিতিতেও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় নিজের আদর্শে অটল থেকে নতুন রাজনৈতিক সংগঠন গড়ে তুলেছিলেন। প্রতিকূল পরিবেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তাঁর এই উদ্যোগ আজও বহু মানুষের কাছে অনুকরণীয় বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আদর্শ, বাংলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং রাষ্ট্রবাদ প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্যকে ঘিরে জোর চর্চা চলছে।

জুলাই ০৬, ২০২৬
দেশ

ভূপেন্দ্র যাদবের পর অমিত শাহ! দিল্লিতে সুদীপের একের পর এক বৈঠকে তুঙ্গে জল্পনা

দিল্লিতে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠককে কেন্দ্র করে ফের রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এলেন তৃণমূল কংগ্রেসের বর্ষীয়ান সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে সাক্ষাতের পর তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন বলে রাজনৈতিক সূত্রে দাবি করা হয়েছে। এই ঘটনাকে ঘিরেই শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা।দীর্ঘদিন ধরেই জাতীয় রাজনীতিতে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিচিতি একজন অভিজ্ঞ সংসদ সদস্য হিসেবে। লোকসভায় বহু বছর তিনি তৃণমূলের দলনেতার দায়িত্ব পালন করেছেন। সংসদে বিভিন্ন দলের নেতাদের সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্কের কথাও রাজনৈতিক মহলে পরিচিত।সূত্রের দাবি, শনিবার দিল্লিতে পৌঁছে প্রথমে ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে যান সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে ছিলেন তৃণমূল সাংসদ শতাব্দী রায়। সেখানে বৈঠক শেষে তিনি অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করেন বলেও জানা যাচ্ছে। দুই নেতার মধ্যে কিছু সময় আলোচনা হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি।এই বৈঠকের পর থেকেই সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে নানা রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছে। তৃণমূলের অন্দরের বর্তমান পরিস্থিতি, সাংসদদের অবস্থান এবং ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। যদিও সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে এখনও এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি।রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক যাত্রার শুরু থেকেই তিনি দলের সঙ্গে যুক্ত। অতীতে রাজনৈতিক মতপার্থক্য তৈরি হলেও পরবর্তীতে তিনি আবার তৃণমূলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ফিরে আসেন।দিল্লিতে তাঁর সাম্প্রতিক বৈঠকগুলি শুধুই সৌজন্য সাক্ষাৎ নাকি এর পিছনে বড় কোনও রাজনৈতিক বার্তা রয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য এবং জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। আগামী দিনে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক অবস্থান এবং তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ কোন দিকে এগোয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

জুন ১৩, ২০২৬
রাজ্য

বাংলায় কি সত্যিই বন্ধ হচ্ছে মদ? অমিত শাহকে ঘিরে ভাইরাল পোস্টে তুমুল চাঞ্চল্য!

বাংলায় রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই একের পর এক জল্পনা ঘিরে উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসকে হারিয়ে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পথে বিজেপি। আর তার মধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে একটি পোস্ট, যেখানে দাবি করা হয়েছে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে পশ্চিমবঙ্গে সম্পূর্ণভাবে মদ বিক্রি বন্ধ হয়ে যাবে। দাবি করা হয়েছে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নাকি এমন ঘোষণা করেছেন।ভাইরাল হওয়া ছবিতে দেখা যাচ্ছে, একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের নামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে লেখা রয়েছে, পশ্চিমবঙ্গকে ড্রাই স্টেট ঘোষণা করা হবে। অর্থাৎ রাজ্যে আর কোথাও মদ বিক্রি করা যাবে না। এই পোস্ট সামনে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়ে যায় তুমুল চর্চা। অনেকে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন, তাহলে কি সত্যিই বিহারের মতো বাংলাতেও মদ নিষিদ্ধ হতে চলেছে? কেউ আবার দাবি করেন, বিজেপি সরকার এলে মাছ-মাংসের পাশাপাশি মদের উপরও নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে।তবে এই ভাইরাল দাবির সত্যতা সামনে আনল প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো বা পিআইবি। কেন্দ্রের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, অমিত শাহ এমন কোনও ঘোষণা করেননি। পশ্চিমবঙ্গে মদ নিষিদ্ধ করার কোনও পরিকল্পনাও নেই। ভাইরাল হওয়া ছবিটি সম্পূর্ণ ভুয়ো এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।পিআইবি জানিয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়া এই ধরনের ভুয়ো খবর সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করছে। তাই কোনও খবর যাচাই না করে বিশ্বাস না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে জানানো হয়েছে, ভুয়ো খবর বা বিভ্রান্তিকর পোস্ট দেখলে সরকারি মাধ্যমে অভিযোগ জানানো যেতে পারে।রাজ্যে সরকার গঠনের আগেই এই ভুয়ো পোস্ট ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে জোর চর্চা। বিশেষ করে মদ নিষিদ্ধের মতো স্পর্শকাতর বিষয়কে কেন্দ্র করে হঠাৎ এমন খবর ছড়িয়ে পড়ায় অনেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তবে কেন্দ্রের স্পষ্ট বার্তার পর আপাতত এই জল্পনায় জল পড়েছে।

মে ০৭, ২০২৬
রাজ্য

মোদী-শাহ ঝড়ে কাঁপবে বাংলা! তিন দিনে আধ ডজন সভা, বাড়ছে ভোটের উত্তাপ

বিধানসভা ভোটের আগে রাজ্যে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। সেই আবহেই বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। একই দিনে রাতে রাজ্যে পৌঁছবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আগামী তিন দিনে দুজনের একাধিক জনসভা ও কর্মসূচি ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।বৃহস্পতিবার রাজ্যের তিনটি জেলায় তিনটি জনসভা করবেন প্রধানমন্ত্রী। প্রথম সভা পূর্ব মেদিনীপুরের হলদিয়ায়। তার পর তিনি যাবেন পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোলে। সেখান থেকে বীরভূমের সিউড়িতে তৃতীয় সভা করবেন তিনি। তিনটি সভা শেষ করে সেদিনই তিনি রাজ্য ছেড়ে চলে যাবেন।প্রধানমন্ত্রী ফিরে যাওয়ার পরই রাতে কলকাতায় পৌঁছবেন অমিত শাহ। শুক্রবার ও শনিবার টানা কর্মসূচি রয়েছে তাঁর। শুক্রবার পশ্চিম মেদিনীপুরে জনসভা করবেন তিনি। পাশাপাশি খড়্গপুরে একটি রোড শো-ও করবেন। শনিবার আবার বাঁকুড়ার ছাতনা ও পুরুলিয়ার বাঘমুন্ডিতে দুটি জনসভা করবেন তিনি। সূত্রের খবর, শুক্রবার সকালে দলের সংকল্পপত্র প্রকাশ করা হতে পারে, যদিও তা নিয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি।ভোট ঘোষণার আগে ব্রিগেডে বড় সভা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। তার পর কোচবিহারেও সভা করেছেন তিনি। অন্যদিকে অমিত শাহও সম্প্রতি রাজ্যে এসে একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। ভবানীপুরে শুভেন্দু অধিকারীর মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন শাহ। সেই সময় হাজরা এলাকা জুড়ে রোড শো ঘিরে উত্তেজনাও ছড়িয়েছিল।এবার আবার ভোটের মুখে মোদী ও শাহের এই টানা কর্মসূচি ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বাড়ার সম্ভাবনা। বিশেষ করে মালদহের ঘটনা, অনুপ্রবেশ, জনবিন্যাস ও এসআইআর প্রসঙ্গ ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে। বিজেপির তরফে প্রকাশিত জনতার চার্জশিট-এ রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলা হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই সব বিষয় নিয়েই সভা থেকে সরব হতে পারেন মোদী ও শাহ।ভোটের আগে এই জোড়া প্রচার কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে এখনই জল্পনা শুরু হয়েছে। বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যেও বাড়ছে কৌতূহল। সব মিলিয়ে, ভোটের লড়াই আরও জমে উঠতে চলেছে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

এপ্রিল ০৯, ২০২৬
কলকাতা

মমতার বাড়ির সামনে সংঘর্ষ! রোড শোতেই চরম অশান্তি

ভবানীপুরে শুভেন্দু অধিকারীর মনোনয়ন জমা দেওয়ার দিনই চরম উত্তেজনা ছড়াল এলাকায়। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতিতে রোড শো চলাকালীন দুই রাজনৈতিক দলের সমর্থকদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়।ঘটনাটি ঘটে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির গলির সামনে। সেখানে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে বচসা থেকে হাতাহাতির পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে এগিয়ে আসতে হয় এবং পুরো এলাকা ঘিরে ফেলা হয়।এ দিন রোড শো চলাকালীন তৃণমূল সমর্থকরা কালো পতাকা দেখিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। পাল্টা স্লোগান দিতে শুরু করেন বিজেপি কর্মীরাও। দুই পক্ষের উত্তেজনা ক্রমেই বাড়তে থাকে।পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন অমিত শাহের কনভয় ওই এলাকায় পৌঁছয়। তখন জুতো ছোড়াছুড়ির ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ। উত্তেজনার মধ্যে কনভয় এগোনো কঠিন হয়ে পড়ে।এই পরিস্থিতিতে অমিত শাহকে কনভয় থেকে নেমে যেতে হয়। পরে তিনি একটি ছোট গাড়িতে উঠে ওই এলাকা পার হন। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি করেছে।মনোনয়ন জমা দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ দিনে এই ধরনের ঘটনার জেরে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকায় কড়া নজরদারি চালাচ্ছে পুলিশ।

এপ্রিল ০২, ২০২৬
কলকাতা

ভবানীপুরে বড় লড়াইয়ের ইঙ্গিত! শুভেন্দুর মনোনয়নে থাকছেন অমিত শাহ

ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী হিসেবে আজ মনোনয়ন জমা দেবেন শুভেন্দু অধিকারী। এই কর্মসূচিতে তাঁর সঙ্গে থাকবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শুধু ভবানীপুর নয়, একই দিনে রাসবিহারী ও বালিগঞ্জ কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থীরাও মনোনয়ন জমা দেবেন।আজ দুপুর প্রায় বারোটা নাগাদ হাজরা মোড় থেকে রোড শো শুরু হবে। সেই রোড শো-তে একসঙ্গে অংশ নেবেন অমিত শাহ ও শুভেন্দু অধিকারী। রোড শো শেষে তাঁরা সার্ভে ভবনে গিয়ে মনোনয়ন জমা দেবেন। সার্ভে ভবনের কিছুটা আগে গাড়ি থামিয়ে পায়ে হেঁটে মনোনয়ন জমা দিতে যাবেন তাঁরা। তাঁদের সঙ্গে থাকবেন দলের আরও কয়েকজন নেতা।বঙ্গ রাজনীতিতে এই প্রথমবার কোনও প্রার্থীর মনোনয়ন জমার সময় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উপস্থিত থাকছেন বলে মনে করা হচ্ছে। তাই এই কর্মসূচিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ভবানীপুর, যা দীর্ঘদিন ধরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত, সেখানে এই রোড শো-কে বিজেপির শক্তি প্রদর্শন হিসেবেও দেখা হচ্ছে।মনোনয়ন জমা দেওয়ার আগে শুভেন্দু অধিকারী সকালে ভবানীপুরের একটি গুরুদ্বারায় যান। সেখান থেকে তিনি একটি মন্দিরে যান এবং তারপর হাজরা মোড়ে এসে রোড শো-তে যোগ দেন।এই কর্মসূচিকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে। অমিত শাহের উপস্থিতি বিজেপি কর্মীদের মধ্যে উৎসাহ বাড়িয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। ফলে আজকের এই কর্মসূচি ভবানীপুরের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

এপ্রিল ০২, ২০২৬
রাজ্য

“আমাকে মারার ছক কষছে?” পুরুলিয়া থেকে বিস্ফোরক মমতা, তীব্র আক্রমণ শাহকে

শনিবার রাজ্যে এসে তৃণমূলের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে ধরেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। কলকাতার একটি হোটেলে বসে তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে বলেন, তিনি নাকি বারবার ভিক্টিম কার্ড খেলেন। এই মন্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে পুরুলিয়ার জনসভা থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এবার কি আমাকে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করছে?শাহর অভিযোগ ছিল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কখনও পায়ে চোট পান, কখনও কপালে ব্যান্ডেজ বাঁধেন, আবার কখনও অসুস্থ হয়ে নিজেকে অসহায় হিসেবে তুলে ধরেন। তাঁর মতে, বাংলার মানুষ এই ধরনের রাজনীতি ভালোভাবেই বুঝে গিয়েছে এবং নির্বাচন কমিশনকে অপমান করা বাংলার সংস্কৃতির বিরোধী।এই বক্তব্যের পাল্টা দিতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ওরা বলছে আমি নাকি ব্যান্ডেজ নিয়ে ঘুরি। আমি বহুবার মৃত্যুর মুখ থেকে লড়াই করে ফিরেছি। হাসপাতালে গিয়ে আমার রিপোর্ট দেখে আসুন। আমার ওপর কী অত্যাচার হয়েছে, তা আপনারা জানেন না। তিনি আরও দাবি করেন, আগের নির্বাচনের সময় ইচ্ছা করে তাঁর পায়ে আঘাত করা হয়েছিল। তখনও তিনি প্লাস্টার নিয়ে হুইলচেয়ারে করে মানুষের কাছে পৌঁছেছিলেন।নন্দীগ্রামে বিধানসভা নির্বাচনের আগে তাঁর পায়ে চোট লাগার ঘটনাও তিনি তুলে ধরেন। সেই সময় তিনি অভিযোগ করেছিলেন, কিছু অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি তাঁকে ধাক্কা দেয়, যার ফলে গাড়ির দরজা তাঁর পায়ে লাগে। যদিও তদন্তে জানানো হয়েছিল, সেটি পরিকল্পিত হামলা নয়, বরং দুর্ঘটনা।মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এভাবে কথা বলার মানে কী? কেউ কাউকে আক্রমণ করার আগে পরিকল্পনা করে। যে ভুল করে, সে কিছু প্রমাণ রেখে যায়। তাঁর কথাতেই বোঝা যাচ্ছে, কিছু একটা পরিকল্পনা চলছে।২০২৪ সালেও তাঁর মাথায় গুরুতর চোট লাগে। তখন জানা গিয়েছিল, নিজের বাড়িতে পড়ে গিয়ে তিনি আঘাত পান এবং কয়েকদিন তাঁর মাথায় ব্যান্ডেজ ছিল।মমতার এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিজেপি নেতা সুকান্ত মজুমদার বলেন, মুখ্যমন্ত্রী আসলে ভয় পেয়েছেন। তাঁর দাবি, এই অভিযোগপত্র বাংলার মানুষের কথা বলছে এবং মুখ্যমন্ত্রীর উচিত রাজ্যের উন্নয়ন নিয়ে কথা বলা।

মার্চ ২৯, ২০২৬
রাজ্য

বড় চমক ২৮ মার্চ! অমিত শাহের উপস্থিতিতে রাজ্যের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক চার্জশিট বিজেপির

বিধানসভা ভিত্তিক রিপোর্ট প্রকাশের পর এবার গোটা রাজ্যকে নিয়ে বড় চার্জশিট প্রকাশ করতে চলেছে বিজেপি। আগামী ২৮ মার্চ এই চার্জশিট প্রকাশ করা হবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-র উপস্থিতিতে। গত পনেরো বছরে রাজ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি তুলে ধরা হবে এই রিপোর্টে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বরাদ্দ এবং তার বাস্তব প্রয়োগ নিয়েও একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করার পরিকল্পনা রয়েছে।ভোটের আগে ধাপে ধাপে এগোতে চাইছে বিজেপি। আপাতত তাড়াহুড়ো না করে সংগঠিতভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা। বিধানসভা নির্বাচনের দিন ঘোষণার পর রাজ্যের ২৯৪টি কেন্দ্রের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হয়েছে। এর মধ্যে ১৮০টি কেন্দ্রের পর্যালোচনা হয়েছে সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন-এর উপস্থিতিতে। একটি বিশেষজ্ঞ দল এই চার্জশিট তৈরি করেছে।দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এই চার্জশিট আগামী কয়েক দিনের মধ্যে রাজ্যের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর প্রকাশ করা হবে নির্বাচনী সংকল্পপত্র। সেই সংকল্পপত্র তৈরির জন্য বাংলার প্রায় দশ হাজার বিশিষ্ট মানুষের মতামত নেওয়া হয়েছে।বিজেপির নির্বাচনী কৌশলে এবার মূল স্লোগান ভয় বনাম ভরসা। স্থানীয় ইস্যুকে সামনে রেখেই আন্দোলন ও প্রচার চালানো হবে। যে সব প্রার্থীর আসন পরিবর্তন করা হয়েছে, তাঁদের জন্য দলের মধ্যে আলাদা একটি নামও ব্যবহার করা হচ্ছে।এই চার্জশিটে রাজ্যের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে দুর্নীতি, প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা, আইনশৃঙ্খলার সমস্যা, নারী নিরাপত্তা, গণতন্ত্রের পরিস্থিতি, শিল্পের অবস্থা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রের সমস্যা, কৃষকদের দুর্দশা, উত্তরবঙ্গের বঞ্চনা, চা শ্রমিকদের অবস্থা, কলকাতার পরিস্থিতি এবং সিন্ডিকেট প্রথার মতো একাধিক ইস্যু।দলীয় সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ৩০ মার্চ থেকে তারকা প্রার্থীরা মনোনয়ন জমা দিতে শুরু করবেন। অন্যদিকে, শুক্রবার রাতে দিল্লি থেকে কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার কথা অমিত শাহের। রাতেই তিনি শহরে পৌঁছে নিউটাউনে যাবেন।সব মিলিয়ে ভোটের আগে এই চার্জশিট প্রকাশকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে চলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

মার্চ ২৭, ২০২৬
রাজ্য

আনন্দপুর আগুন দুর্ঘটনা নয়! ব্যারাকপুর থেকে বিস্ফোরক দাবি অমিত শাহের

আনন্দপুরের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এখনও পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে দুজন মোমো কোম্পানির আধিকারিক। কিন্তু ঘটনার এতদিন পরেও মোমো কোম্পানির মালিককে গ্রেফতার না করা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এই প্রশ্ন তুলে প্রথমে সরব হন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এবার সেই সুরেই কথা বললেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।শনিবার ব্যারাকপুরের আনন্দপুরী মাঠে বিজেপির কর্মিসভা থেকে তৃণমূল সরকারকে সরাসরি নিশানা করেন অমিত শাহ। একইসঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডে জড়িত সকল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে জেলে পাঠানো হবে।সভায় বক্তব্যের শুরুতেই অমিত শাহ বলেন, আনন্দপুরের মোমো কারখানার গুদামে অগ্নিকাণ্ডে যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের প্রতি তিনি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। এরপরই তিনি দাবি করেন, এই ঘটনা কোনও দুর্ঘটনা নয়। তাঁর অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের দুর্নীতির ফলেই এই অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে।তৃণমূলকে আক্রমণ করে শাহ বলেন, এই ঘটনায় ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ২৭ জন এখনও নিখোঁজ। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সেই প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, মোমো কোম্পানিতে কারা টাকা ঢেলেছে, মালিক কার সঙ্গে বিদেশ সফরে গিয়েছেন এবং কেন এখনও পর্যন্ত ওই মালিককে গ্রেফতার করা হয়নি, তার জবাব রাজ্য সরকারকে দিতে হবে। তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বলেন, মৃতরা বাংলার নাগরিক। তা হলে এখানে কেন ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতি করা হচ্ছে। তাঁর আরও প্রশ্ন, যদি এরা অনুপ্রবেশকারী হতেন, তা হলে কি সরকারের প্রতিক্রিয়া একই রকম হত।অগ্নিকাণ্ডে জড়িতদের কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে অমিত শাহ বলেন, এই ঘটনায় যাঁরা যুক্ত, তাঁদের সকলের জেলে যাওয়া উচিত। তাঁর অভিযোগ, মন্ত্রীরা ৩২ ঘণ্টা পরে ঘটনাস্থলে গিয়েছেন এবং জলাজমির উপর বেআইনি ভাবে গুদাম তৈরি করা হয়েছিল। তিনি বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যতই ঘটনা ঢাকার চেষ্টা করুন, এপ্রিলের পর বিজেপি ক্ষমতায় এলে একে একে সকল অভিযুক্তকে খুঁজে বের করে শাস্তি দেওয়া হবে। তাঁর বক্তব্য, ২০২৬ সালই হবে তৃণমূলকে বিদায় জানানোর বছর।অমিত শাহের এই মন্তব্যের পাল্টা প্রতিক্রিয়া দিয়েছে তৃণমূল। দলের নেতা তন্ময় ঘোষ বলেন, বিজেপির প্রতিবাদের ধরনই তাদের সংস্কৃতি প্রকাশ করে। তাঁর কটাক্ষ, শুভেন্দু অধিকারী যখন প্রতিবাদ করতে গিয়েছিলেন, তখন সেখানে ডিজে বাজছিল, যা দেখে মনে হচ্ছিল বিয়েবাড়ির অনুষ্ঠান চলছে। তন্ময় ঘোষ আরও বলেন, অমিত শাহ যখন বাংলায় এসে এই ধরনের মন্তব্য করছেন, তখন মধ্যপ্রদেশে দূষিত জল খেয়ে মানুষের মৃত্যুর প্রসঙ্গ তিনি এড়িয়ে যাচ্ছেন। তাঁর দাবি, বিজেপির বাংলা দখলের স্বপ্ন কোনও দিনই বাস্তব হবে না।

জানুয়ারি ৩১, ২০২৬
রাজনীতি

নির্বাচনী প্রস্তুতির বার্তা নিয়ে কলকাতায় অমিত শাহ, হোটেল বৈঠক থেকে কর্মী সম্মেলনের ব্যস্ত সফর

শুক্রবার রাতে কলকাতায় এসে পৌঁছোলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা অমিত শাহ। বিমানবন্দর থেকে তিনি সরাসরি নিউ টাউনের একটি হোটেলে যান। প্রকাশ্যে কোনও কর্মসূচি না থাকলেও, রাতেই দলের কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক ও রাজ্য নেতৃত্বের একাংশের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেন তিনি। বিজেপি সূত্রে খবর, এই বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় ছিল আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে সংগঠনের প্রস্তুতি ও কৌশল নির্ধারণ।হোটেলেই অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করেন বিজেপির একাধিক প্রথম সারির রাজ্য নেতা এবং কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকরা। যদিও বৈঠক নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ মন্তব্য করেননি, দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি, কর্মীসংগঠন এবং নির্বাচনী রণকৌশল নিয়েই মূলত আলোচনা হয়েছে। পরে আরও কয়েক জন শীর্ষ নেতার সঙ্গে সাক্ষাতের সম্ভাবনাও ছিল বলে খবর।শনিবার তাঁর কর্মসূচি পুরোপুরি কর্মী সম্মেলন ঘিরে। সকাল ১১টা ১০ নাগাদ তিনি যাবেন উত্তর ২৪ পরগনার ব্যারাকপুরে। আনন্দপুরী মাঠে আয়োজিত কর্মী সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন বনগাঁ, বসিরহাট, বারাসত ও ব্যারাকপুর এই চারটি সাংগঠনিক জেলার বিজেপি কর্মীরা। এরপর কলকাতা বিমানবন্দর থেকে তিনি রওনা দেবেন বাগডোগরার উদ্দেশে।বিকেলে শিলিগুড়ির এয়ারফোর্স ময়দানে দ্বিতীয় কর্মী সম্মেলনে যোগ দেবেন অমিত শাহ। সেখানে শিলিগুড়ি, দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহার এই পাঁচটি সাংগঠনিক জেলার কর্মীরা উপস্থিত থাকবেন। কর্মী সম্মেলন শেষে বিকেল সাড়ে ৪টে নাগাদ বাগডোগরা থেকেই দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।রাজনৈতিক মহলের মতে, এই সফর স্পষ্টভাবেই রাজ্যে বিজেপির নির্বাচনী প্রস্তুতির গতি বাড়ানোর বার্তা বহন করছে, যেখানে সংগঠন মজবুত করা ও কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করাই মূল লক্ষ্য।

জানুয়ারি ৩০, ২০২৬
রাজ্য

নরেন্দ্র মোদীর পর এবার রাজ্যে আসছেন অমিত শাহ, ৩০ ডিসেম্বর বৈঠক করবেন নেতৃত্বের সঙ্গে

একদিন আগেই রাজ্যে এসেছিলেন বিজেপির পোস্টারবয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এবার রাজ্যে আসছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আগামী ৩০ডিসেম্বর বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে তিনি বৈঠক করবেন। ওই বৈঠকে আগামী ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের কৌশল রচনা করবেন। তারপর সাংবাদিক বৈঠক করবেন অমিত শাহ। যদিও তাঁর এই বঙ্গসফরকে পাত্তা দিতে নারাজ তৃণমূল কংগ্রেস। তাঁদের বক্তব্য, বাংলায় নরেন্দ্র মোদী হোক বা অমিত ষশাহ হোক, এঁরা কেউ এখানে বিজেপির জয় এনে দিতে পারবেন না। আগেও নির্বাচনের আগে বারে বারে এসেছেন এবারও আসবেন। তবে ব্যর্থ হবেন বলেই দাবি তৃণমূল কংগ্রেসের।

ডিসেম্বর ২১, ২০২৫
দেশ

অঙ্গ-কলিঙ্গের পর এবার ‘বঙ্গ মিশন’! ডিসেম্বরে বাংলায় আসছেন মোদী ও শাহ?

অঙ্গ, কলিঙ্গ জয় হয়েছে। এবার নজর একটাইবঙ্গ। বিজেপির রাজনৈতিক ব্লুপ্রিন্টে এখন কার্যত এটাই সবচেয়ে বড় টার্গেট। ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটকে সামনে রেখে সমস্ত কৌশল কাজে লাগাতে শুরু করেছে গেরুয়া শিবির। তারই অঙ্গ হিসেবে ডিসেম্বর থেকেই বাংলায় টানা কর্মসূচি শুরু করতে চলেছেন নরেন্দ্র মোদী। বঙ্গ বিজেপির অন্দরমহলের খবর, নির্বাচনী বিধি চালু হওয়ার আগেই রাজ্যে বাকি থাকা সব কর্মসূচি সেরে ফেলতে চাইছেন প্রধানমন্ত্রী।দলের শীর্ষ সূত্রের দাবি, ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটকে সামনে রেখে বাংলায় মোট ১০টি বড় কর্মসূচির আবেদন জানানো হয়েছিল প্রধানমন্ত্রীর কাছে। তার মধ্যে আলিপুর, দমদম ও দুর্গাপুর মিলিয়ে ইতিমধ্যেই তিনটি কর্মসূচি হয়ে গিয়েছে। বাকি রয়েছে আরও সাতটি। ডিসেম্বরের শেষ দিক থেকেই সেই কর্মসূচিগুলি একের পর এক সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। শুধু তাই নয়, এই সময়কালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একই মঞ্চে কর্মসূচিতে যোগ দিতে পারেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।পরের বছর একযোগে তিন রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনঅসম, তামিলনাড়ু ও পশ্চিমবঙ্গ। দক্ষিণে বিজেপির সংগঠন এখনও তুলনায় দুর্বল। অসমে গেরুয়া শিবিরের ভিত যথেষ্ট মজবুত। ফলে রাজনৈতিক লড়াইয়ের আসল ময়দান হয়ে উঠছে বাংলা। এখানেই সবথেকে কঠিন পরীক্ষা। সেই কারণেই কোনও খামতি রাখতে রাজি নয় বিজেপি নেতৃত্ব।বৃহস্পতিবার বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডা-র বাসভবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ নৈশভোজ বৈঠক হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ বিহারের নির্বাচনী কৌশল রচনার নেপথ্যের গুরুত্বপূর্ণ সংগঠকেরা। অঙ্গ জয়ের সাংগঠনিক মডেল যাঁরা দাঁড় করিয়েছিলেন, এবার তাঁদেরই দায়িত্ব আরও বাড়তে চলেছে বলে সূত্রের খবর। বিহারের পর বাংলা ও তামিলনাড়ুতেও জয় ছিনিয়ে আনার লক্ষ্যেই এবার ওই অভিজ্ঞ নেতাদের নামানো হচ্ছে নির্বাচনী ময়দানে।রাজনৈতিক মহলের মতে, অঙ্গ-কলিঙ্গের পর বাংলাকেই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে বিজেপি। সরাসরি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের তত্ত্বাবধানে গোটা নির্বাচনী রণকৌশল সাজানো হচ্ছে। ডিসেম্বর থেকে শুরু হতে চলা টানা কর্মসূচির মাধ্যমেই এই লড়াইয়ের সূচনা করতে চাইছে গেরুয়া শিবির।

নভেম্বর ২৮, ২০২৫
কলকাতা

গোর্খাল্যান্ড নিয়ে কেন্দ্র–রাজ্য সংঘাত! মমতার চার পাতার চিঠি নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক ঝড়

গোর্খাল্যান্ডের আলাদা প্রশাসনের দাবিতে এক সময় পাহাড় উত্তাল হয়েছিল। সেই আন্দোলনের মধ্যেই তৈরি হয়েছিল গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা জিটিএ। রাজ্য সরকার বরাবরই পাহাড়ে শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য মধ্যস্থতার ভূমিকা রেখেছে। কিন্তু সেই মধ্যস্থতাকে কেন্দ্র করেই এবার রাজ্য ও কেন্দ্রের মধ্যে নতুন সংঘাত দেখা দিয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক দার্জিলিং, তরাই এবং ডুয়ার্স অঞ্চলের গোর্খা প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলার জন্য প্রাক্তন আইপিএস পঙ্কজকুমার সিংহকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিয়োগ করেছে। আর এই নিয়োগকে ঘিরেই আপত্তি তুলেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চার পাতার চিঠি পাঠিয়ে জানালেন রাজ্যের অসন্তোষ।এর আগে গত মাসেও একই ইস্যুতে মোদীকে চিঠি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই চিঠির পর প্রধানমন্ত্রীর দফতর জানিয়েছিল যে বিষয়টি স্বরাষ্ট্র দফতরকে বিবেচনা করতে বলা হয়েছে। কিন্তু মমতার অভিযোগ, কোনও আলোচনার তোয়াক্কা না করেই আবারও নিজেদের মতো করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বরাষ্ট্র দফতর। তাঁর কথায়, জিটিএ-র মতো সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে মধ্যস্থতাকারী নিয়োগের আগে রাজ্যের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত ছিল, কিন্তু কেন্দ্র সেই পথ নেয়নি। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, প্রাক্তন আমলাদের এইভাবে বিশেষ দায়িত্ব দিলে তাঁদের মধ্যে রাজনৈতিক আনুগত্যের ঝোঁক বাড়ে, যা প্রশাসনিক নিরপেক্ষতার পরিপন্থী।মমতার অভিযোগ আরও তীব্র হয়েছে কেন্দ্রের সাম্প্রতিক বিজ্ঞপ্তি ঘিরে। অভিযোগ করেছেন, প্রধানমন্ত্রীর দফতরের নির্দেশ সত্ত্বেও স্বরাষ্ট্র দফতর রাজ্যের সঙ্গে কোনও আলোচনা করেনি; উল্টে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিয়োগ পাওয়া প্রাক্তন আইপিএস ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করেছেন বলে জানানো হয়েছে। মমতার বক্তব্য, এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, যা পাহাড়ের শান্তি ও স্থিতাবস্থা নষ্ট করতে পারে।তবে এই ইস্যুকে গুরুত্ব দিতে নারাজ রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি সরাসরি বলেছেন, মুখ্যমন্ত্রীর পাঠানো চিঠির কোনও মূল্যই নেই। শুভেন্দুর মন্তব্য, কেন্দ্র আইন বুঝেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং একজন প্রাক্তন আইপিএসকে নিয়ে অভিযোগ তোলার কোনও মানে হয় না। রাজ্যের অভিযোগকে তিনি ফালতু বলেই সমালোচনা করেছেন।পাহাড়ে দীর্ঘদিন ধরে শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে। জিটিএ নিয়ে কেন্দ্ররাজ্য সংঘাত নতুন করে কী প্রভাব ফেলবে, এখন সেই দিকেই তাকিয়ে গোটা দার্জিলিং পাহাড়।

নভেম্বর ১৮, ২০২৫
রাজ্য

বিজেপি সাংসদ ও বিধায়কের ওপর হামলা, নিন্দা নরেন্দ্র মোদীর, ফোন রাজনাথ সিংয়ের

বন্যা ও ভমি ধ্বসে বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গ। এরই মধ্যে নাগরাকাটায় বন্যা পরিস্থিতি দেখতে গিয়েছিলেন মালদা উত্তরের সাংসদ খগেন মুর্মু ও শিলিগুড়ির বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ। তাঁদের ওপর তৃণমূল কংগ্রেস প্রাণঘাতী হমলা করেছে বলে অভিযোগ। মাথা ফেটে রক্তাক্ত হয়েছেন খগেন মুর্মু। আঘাত পেয়েছেন শঙ্কর ঘোষ। যদিও তৃণমূল অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এবার এই ঘটনায় সোশ্যাল মিডিয়ায় মুখ খুললে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। জখম সাংসদের সঙ্গে কথা বলেছেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং।প্রধানমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। আক্রমণের তীব্র নিন্দা করেছেন। নরেন্দ্র মোদী এক্স হ্যান্ডেলে বলেছেন, যেভাবে আমাদের দলের সহকর্মীরাযাদের মধ্যে একজন বর্তমান সাংসদ ও বিধায়কও রয়েছেনপশ্চিমবঙ্গে বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সেবা করতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন, তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। এটি তৃণমূল কংগ্রেসের অসংবেদনশীলতা এবং রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলার করুণ রূপের স্পষ্ট প্রতিফলন।যেভাবে আমাদের দলের সহকর্মীরাযাদের মধ্যে একজন বর্তমান সাংসদ ও বিধায়কও রয়েছেনপশ্চিমবঙ্গে বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সেবা করতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন, তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। এটি তৃণমূল কংগ্রেসের অসংবেদনশীলতা এবং রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলার করুণ রূপের স্পষ্ট প্রতিফলন।আমার Narendra Modi (@narendramodi) October 6, 2025আমার একান্ত কামনা পশ্চিমবঙ্গ সরকার ও তৃণমূল কংগ্রেস এই কঠিন পরিস্থিতিতে হিংসায় লিপ্ত না হয়ে মানুষের সাহায্যে আরও মনোযোগী হোক। আমি বিজেপি কার্যকর্তাদের আহ্বান জানাই, তারা যেন জনগণের পাশে থেকে চলতি উদ্ধার কাজে সহায়তা করে যান।এদিকে নাগরাকাটায় বন্যা পরিস্থিতি পরিদর্শনে গিয়ে সাংসদ খগেন মুর্মু ও বিধায়ক শঙ্কর ঘোষের ওপর হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংজি। রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এক্স হ্যান্ডেলে বলেছেন, তিনি টেলিফোনে আমার সঙ্গে কথা বলে ঘটনার বিস্তারিত জানতে চান এবং স্পষ্ট বার্তা দেন রাজনীতিতে হিংসার কোনো স্থান নেই। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ এই অন্যায় ও অত্যাচার কখনো মেনে নেবে না। সবাই মিলে এই হিংসার রাজনীতি প্রতিহত করতে হবে। বাংলার মানুষ গণতন্ত্রের শক্তিতে বিশ্বাস রাখে।

অক্টোবর ০৭, ২০২৫
রাজ্য

বাংলায় বেকার ছেলেকে চাকরি পেতে গেলে ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা ঘুষ দিতে হয়ঃ অমিত শাহ

এরাজ্যে চাকরি পেতে গেলে ১০ থেকে ১৫ লক্ষ টাকা ঘুষ দিতে হয়। রাজ্যের কয়েকজন নেতা ও মন্ত্রীদের ঘর থেকে উদ্ধার হয়েছে কোটি কোটি টাকা। অনেকেই জেল খাটছেন। এই ভ্রষ্টাচার আটকাতে গেলেই মোদি সরকারকে দরকার । মঙ্গলবার দুপুরে দক্ষিণ মালদা লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী শ্রীরূপা মিত্র চৌধুরীর সমর্থনে নির্বাচনী প্রচার এবং রোডশো করতে এসে এভাবেই রাজ্যের শাসকদল তৃণমূলের সমালোচনা করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এদিন উত্তরবঙ্গে দ্বিতীয় দফায় মালদা এসে রোড শো করেন কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ইংরেজবাজার শহরের ফোয়ারা মোড় থেকে রবীন্দ্র এভেনিউ এলাকার রবীন্দ্রমূর্তির কাছেই রোড-শো শেষ হয় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। দক্ষিণ মালদার বিজেপি প্রার্থী শ্রীরূপা মিত্র চৌধুরীকে হুডখোলা গাড়িতে পাশে নিয়ে এই রোড-শো করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। এদিন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর রোড-শোকে ঘিরে বিভিন্ন ধরনের বাদ্যযন্ত্র ও দলীয় ঝান্ডায় সামিল হন দলীয় নেতা, কর্মীরা।এদিন তীব্র দাবদহের মধ্যে মালদার ইংরেজবাজার শহরের প্রাণকেন্দ্র ফোয়ারা মোড় থেকে রথবাড়ি কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর রোড-শোয়ের জেরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। সকাল গড়িয়ে দুপুরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অমিত শাহের হেলিকপ্টার নামে মালদা বিমানবন্দরে। এরপরে সেখান থেকে কনভয় নিয়ে সরাসরি শহরের ফোয়ারা মোড় এলাকার সভা মঞ্চে চলে আসেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। সেখানে মাত্র পাঁচ মিনিট বক্তব্য রেখেই শুরু হয় এই রোড শো। এদিন নির্বাচনী প্রচারে এসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, এরাজ্যে একের পর এক দুর্নীতিগ্রস্ত নেতারা কেন্দ্রীয় তদন্তকারী এজেন্সির কাছে ধরা পড়েছে। এই বাংলায় বেকার ছেলেকে চাকরি পেতে গেলে ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা ঘুষ দিতে হয় । এর থেকে আর নিন্দাজনক কি হতে পারে? প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির লক্ষ্য স্বচ্ছ ভারত এবং উজ্জ্বল ভারত গড়ে তোলা। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আরও বলেন, উজ্জ্বল ভারত গড়তে গেলে অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে হবে। অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে গেলে এনআরসি এবং সিএএ দরকার। ভ্রষ্টাচার বন্ধ করতে হবে। বেকারত্ব দূর করতে হবে। যেটা গত দুইবারের ক্ষমতায় থেকে কেন্দ্রের মোদি সরকার করেছেন। এরাজ্যে তৃণমূল সরকার শুধু দুর্নীতি আর ভ্রষ্টাচার করে এসেছে। তাঁর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর একটাই ভাষা সেটাই হচ্ছে আপনাদের ভোট । এই ইংরেজবাজার বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বিজেপি প্রার্থীকে অন্তত এক লক্ষেরও বেশি ভোট দিয়ে জয়ী করতে হবে। এদিন মালদায় রোড-শো করার সময় মালদার তাপমাত্রা ছিল প্রায় ৪২ ডিগ্রির কাছাকাছি। আর এত দাবদাহের মধ্যে অসংখ্য মানুষের ভিড় দেখে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ । তিনি বলেন, আপনাদের জনজোয়ার এবং স্লোগান বলে দিচ্ছে এই বাংলায় বিজেপি প্রচুর আসন পাবে । একইভাবে মালদার দুটো আসনে বিপুল ভোটে জয়ী হবে বিজেপির দুই প্রার্থী। এই রোড-শো করার পর এই দিন মালদা থেকে হেলিকপ্টার করেই পূর্ণিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

এপ্রিল ২৩, ২০২৪
রাজনীতি

তৃণমূলের ২১ জুলাইয়ের সভাস্থলে বিজেপির সমাবেশ, থাকতে পারেন অমিত শাহ

অবশেষে আদালত থেকে কলকাতায় ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একুশে জুলাইয়ের সভাস্থলেই জনসভা করার অনুমতি আদায় করল রাজ্য বিজেপি। বারবার আবেদনের পরও, সভা করার আবেদন বাতিল করে দিয়েছিল কলকাতা পুলিশ। অবশেষে সোমবার কলকাতা হাইকোর্ট বিজেপিকে ২৯ নভেম্বর কলকাতায় সভা করার অনুমতি দিল। সোমবার মামলাটি উঠেছিল বিচারপতি রাজশেখর মান্থার সিঙ্গল বেঞ্চে। সেখানেই বিচারপতি মান্থার সভা করার অনুমতি দিয়েছেন।এই ব্যাপারে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি রাজশেখর মান্থার বলেন, আপনারা বলছেন যে অন্তত দুই থেকে তিন সপ্তাহ আগে সভার আবেদন করতে হয়। এখানে তো দুই সপ্তাহ আগেই আবেদন করা হয়েছে বলে দেখতে পাচ্ছি। কিন্তু, তারপরও তো সিস্টেম জেনারেটেড মেসেজ পাঠিয়ে আবেদন নাকচ করা হয়েছে বলে দেখতে পাচ্ছি। আপনারা এভাবে যতই আটকাবেন, ততই সন্দেহ বাড়বে। এটি একটি স্বাধীন দেশ। এখানে এভাবে বাধা দেওয়া যায় না।আগামী বছরই লোকসভা নির্বাচন। ইতিমধ্যে সেই নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতিও শুরু করে দিয়েছে রাজনৈতিক দলগুলো। রাজ্য বিজেপিও কেন্দ্রীয় নেতাদের এনে এরাজ্যে সভা করাতে চাইছে। কিন্তু, বিভিন্ন জায়গায় প্রশাসন অনুমতি দিচ্ছে না-বলে অভিযোগ। তারই মধ্যে ২৯ নভেম্বর, অমিত শাহকে ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একুশে জুলাইয়ের সভার স্থানেই সভা করাতে চাইছেন রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব।রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় সাংবাদিকদের বলেন, পুলিশের কাছে বারবার আবেদন করার পরও অনুমতি দেয়নি। বাধ্য হয়েই আমাদের আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়েছিল। অবশেষে আদালত ২৯ নভেম্বর সভা করার জন্য অনুমতি দিয়েছে। তৃণমূলের তরফে সাংসদ শান্তনু সেন বলেন, বিজেপিশাসিত রাজ্যে এয়ারপোর্ট থেকেই ঘাড়ধাক্কা দিয়ে ফেরত পাঠিয়ে দেয়। কিন্তু, এখানে অনুমতি দেওয়ার জন্যই বিভিন্ন সময় বিজেপির নেতা-নেত্রীরা এরাজ্যে এসে সভা করে গিয়েছেন। তবে, কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নন। প্রশাসন না-চাইলে, কাউকে অনুমতি না-দিতেই পারে।

নভেম্বর ২০, ২০২৩
রাজ্য

হিংসা ছড়াচ্ছে ও কন্ট্রোল রুমে বসে যে রাজনীতিকরা রিমোট চালাচ্ছে, তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ: রাজ্যপাল

পঞ্চায়েত ভোটে মারাত্মক হিংসা র বিরুদ্ধে মুখ খুলেছিলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। তখনও ভর্ৎসনা করেছিলেন কমিশনারকে। রাজীব সিনহার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন রাজ্যপাল। পঞ্চায়েত নির্বাচনের দিন সরজমিনে ঘুরে পরিস্থিতি যাচাই করেছেন। দিল্লি থেকে কলকাতা ফিরে গণনার দিনও একই রুটিন ছিল রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধানের। তারপরই বাংলার ভোটে রাজনৈতিক সংস্কৃতি বদলে মূল দুটি বিষয়ের বিরুদ্ধে ধর ডাক দিলেন রাজ্যপাল।কী বলেছেন রাজ্যপাল?রাজভবনে এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন সিভি আনন্দ বোস। তিনি বলেন, গণতন্ত্রে ভোট হল বন্ধুত্বপূর্ণ লড়াই। ভোটকে কেন্দ্র করে হিংসা বা ঘৃণা তৈরি হওয়া ঠিক নয়। এখন আমাদের ভেদাভেদ ভুলে মানুষের জন্য কাজ করতে হবে। নির্বাচন ব্যালটে লড়া উচিত, বুলেটে নয়। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে চলার নামই গণতন্ত্র। যে পিছিয়ে পড়বে তাকেও হাত ধরে এগিয়ে নিয়ে আসতে হবে। আমরা এসঙ্গে সাফল্যের দিকে এগিয়ে যাবই। যেমন মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র বলেছিলেন, আমরা করব জয় নিশ্চয়।পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলিকে রাজ্যপালের পরামর্শ, রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে বাংলার সমস্ত রাজনৈতিক দলের এই মুহূর্তে ২টি লক্ষ্যে কাজ করা উচিত। প্রথমত, দুটি মূল শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামতে হবে তাদের। সেগুলি হল হিংসা ও দুর্নীতি। আমরা এই নির্বাচন থেকে অনেক কিছু শিখেছি। আমার বিশ্বাস এর পর হিংসা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ধর্মযুদ্ধ শুরু হবে।ভোটে হিংসার বিরুদ্ধে এদিন সকালে রাজ্যপাল বলেছিলেন, যারা হিংসা ছড়াচ্ছে এবং কন্ট্রোল রুমে বসে যে রাজনীতিকরা রিমোট চালিয়ে এই হিংসায় উস্কানি দিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা হবে। অল-আউট অ্যাকশন নেওয়া হবে। প্রশাসন কড়া হাতে এই হিংসা প্রতিহত করবে।প্রতিটি সন্ন্যাসীর অতীত রয়েছে, প্রতি পাপীর ভবিষ্যৎ রয়েছে। আজ যারা বাজে কাজ করছেন, ভবিষ্যতে তারাই ভালো কাজ করতে পারেন। আজকের হিংসা ভবিষ্যতের প্রজন্মের জন্য নেতিবাচক। তবে আমরা ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য বাংলাকে নিরাপদ জায়গায় পরিণত করে তুলব।

জুলাই ১১, ২০২৩
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • ›

ট্রেন্ডিং

খেলার দুনিয়া

যুবভারতীতে লাল-হলুদ ঝড়, বাগানকে উড়িয়ে ২২ বছর পর ডুরান্ড ইস্টবেঙ্গলের

২২ বছরের অপেক্ষার অবসান। কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ডুরান্ড কাপের ফাইনালে মোহনবাগানকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে ফের ট্রফি ঘরে তুলল ইস্টবেঙ্গল। ডার্বির মঞ্চে এমন একতরফা জয় যে লাল-হলুদ সমর্থকদের কাছেও ছিল প্রায় অবিশ্বাস্য। আর সেই জয়ের কেন্দ্রে একটাই নামএডমুন্ড লালরিনডিকা। দুরন্ত হ্যাটট্রিক করে তিনিই হয়ে উঠলেন রাতের নায়ক।গ্রুপ পর্বে মোহনবাগানের কাছে হারের যন্ত্রণা ছিল ইস্টবেঙ্গলের। ফাইনালের মঞ্চে সেই হারের জবাব দেওয়ার সুযোগও ছিল। কিন্তু জবাবটা যে এতটা নির্মম হবে, তা সম্ভবত কেউই ভাবেননি। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণের ঝড় তুলে মাত্র ২২ মিনিটের মধ্যেই তিন গোল করে ইস্টবেঙ্গল কার্যত ম্যাচের ভাগ্য লিখে ফেলে।শুরুটা করেন বিপিন সিংহ। মোহনবাগানের রক্ষণ তখনও নিজেদের মধ্যে সামলে ওঠার চেষ্টা করছে। সেই সুযোগেই ইস্টবেঙ্গলের আক্রমণ পৌঁছে যায় বিপজ্জনক জায়গায়। বিপিনের গোলের পর আরও ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে লাল-হলুদ আক্রমণ। মুহূর্তের মধ্যে জোড়া গোল করে ব্যবধান বাড়িয়ে দেন এডমুন্ড।৩-০ পিছিয়ে গিয়ে মোহনবাগান কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছিল। মনবীর সিংহ ব্যক্তিগত দক্ষতায় একটি গোল শোধও করেন। কিন্তু সেই প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনাও বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই ফের গোল করে নিজের হ্যাটট্রিক সম্পূর্ণ করেন এডমুন্ড। এক ফাইনালের প্রথমার্ধেই চার গোলতার মধ্যে তিনটি একই ফুটবলারের! যুবভারতীর গ্যালারিতে তখন কার্যত লাল-হলুদ উৎসব।দ্বিতীয়ার্ধে মোহনবাগান ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করলেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি ছিল ইস্টবেঙ্গলের হাতে। সবুজ-মেরুন আক্রমণে সেই ধার দেখা যায়নি, যা একটি ডার্বি ফাইনালে প্রত্যাশিত। বরং ইস্টবেঙ্গল সুযোগ পেলেই দ্রুত আক্রমণে উঠে এসেছে এবং আরও গোলের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। শেষ পর্যন্ত ৪-১ স্কোরলাইনেই শেষ হয় ম্যাচ।ইস্টবেঙ্গলের সাফল্যের অন্যতম বড় কারণ ছিল দলের সামগ্রিক সংগঠন। মাঝমাঠে মহম্মদ রশিদ ছিলেন অসাধারণ। বল নিয়ন্ত্রণ, পাসিং এবং খেলা পরিচালনায় বারবার তিনি মোহনবাগানের ছন্দ নষ্ট করেছেন। তাঁর সঙ্গে জিকসন সিংহ, আনোয়ার আলি এবং জয় গুপ্তারাও নিজেদের দায়িত্ব নিখুঁত ভাবে পালন করেন।অন্যদিকে মোহনবাগানের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হয়ে দাঁড়ায় রক্ষণ। শুভাশিস বসু, আলবের্তো রদ্রিগেজ়দের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব বারবার প্রকট হয়েছে। ইস্টবেঙ্গলের দ্রুত আক্রমণের সামনে তাঁরা অনেক সময়ই দিশেহারা হয়ে পড়েন। বিশেষ করে তৃতীয় ও চতুর্থ গোলের ক্ষেত্রে রক্ষণভাগের ভুল চোখে পড়ার মতো।মাঝমাঠেও মোহনবাগান প্রত্যাশিত প্রভাব ফেলতে পারেনি। আপুইয়া এবং অনিরুদ্ধ থাপা কার্যত নিষ্প্রভ ছিলেন। আক্রমণে জেমি ম্যাকলারেনও একাধিক সহজ সুযোগ নষ্ট করেন। মনবীর গোল করলেও দলকে ম্যাচে ফেরানোর মতো ধারাবাহিকতা তৈরি করতে পারেননি।ফাইনালের আগে মোহনবাগানের ক্লান্তি নিয়ে আলোচনা ছিল। শিলংয়ে সেমিফাইনাল, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং কর্দমাক্ত মাঠে খেলার ধকলসবই ছিল। কিন্তু ডার্বির মতো বড় ফাইনালে সেই ক্লান্তিকে অজুহাত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ইস্টবেঙ্গলও একই টুর্নামেন্টের চাপ সামলে মাঠে নেমেছিল, অথচ তাদের ফুটবলারদের মধ্যে ছিল অনেক বেশি তাগিদ, ক্ষুধা এবং জয়ের মানসিকতা।আর সেই মানসিকতারই সবচেয়ে বড় প্রতিফলন এডমুন্ডের হ্যাটট্রিকে। তিন গোল করে শুধু ম্যাচের সেরা ফুটবলারই হলেন না, ডুরান্ডের ইতিহাসে ইস্টবেঙ্গলের প্রত্যাবর্তনের রাতটিকেও নিজের নামে লিখে দিলেন তিনি।মজার বিষয়, ম্যাচের বিভিন্ন পরিসংখ্যানে মোহনবাগান কিছু ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকলেও তার কোনও প্রভাব পড়েনি স্কোরলাইনে। কারণ ফুটবল শুধু বল দখল বা শটের সংখ্যা দিয়ে জেতা যায় নাবড় ম্যাচে প্রয়োজন সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত এবং সুযোগকে গোলে পরিণত করার ক্ষমতা। সেই পরীক্ষায় রবিবার সম্পূর্ণ সফল ইস্টবেঙ্গল।২২ বছর আগে শেষ বার ডুরান্ড কাপ জিতেছিল ইস্টবেঙ্গল। তারপর দীর্ঘ অপেক্ষা, হতাশা এবং একের পর এক অসম্পূর্ণ স্বপ্ন। সেই অপেক্ষার অবসান হল চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগানকে ৪-১ গোলে হারিয়েই। ফলে এই জয় শুধু একটি ট্রফি জয় নয়লাল-হলুদ সমর্থকদের কাছে এটি দীর্ঘ অপেক্ষার পর ফিরে পাওয়া গৌরবের রাত।একদিকে এডমুন্ডের হ্যাটট্রিক, অন্যদিকে মোহনবাগানের রক্ষণভাগের বিপর্যয়সব মিলিয়ে যুবভারতীতে রবিবারের ডার্বি যেন হয়ে রইল এক লাল-হলুদ ঝড়ের রাত।তবে ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের মনে হয়তো শেষ পর্যন্ত একটাই আক্ষেপ থেকে গেলচার নয়, আরও কয়েকটি গোল হতে পারত!

আগস্ট ২৩, ২০২৬
টুকিটাকি

কাঁচা কুমড়ো না পাকা কুমড়ো, কোনটি বেশি উপকারী?

কুমড়ো বাঙালির রান্নাঘরের অতি পরিচিত একটি সবজি। কাঁচা সবুজ কুমড়ো হোক বা পাকা হলুদ-কমলা কুমড়ো, দুটিরই রয়েছে নানা পুষ্টিগুণ। তবে পরিপক্বতার সঙ্গে কুমড়োর পুষ্টি উপাদানে কিছুটা পরিবর্তন ঘটে। বিশেষ করে পাকা কমলা কুমড়ো বিটা-ক্যারোটিনের অন্যতম ভালো উৎস হিসেবে পরিচিত।কাঁচা কুমড়োতে তুলনামূলকভাবে ভিটামিন C-এর পরিমাণ বেশি থাকতে পারে। এতে ক্যালোরিও কম, ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণের খাদ্যতালিকায় এটি রাখা যেতে পারে। কিছু জাতের অপরিপক্ব কুমড়োতে অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট কার্যকারিতাও দেখা যায়। তবে কাঁচা কুমড়ো রান্না করে খাওয়াই ভালো, কারণ তাতে হজম সহজ হয়।অন্যদিকে, পাকা হলুদ বা কমলা কুমড়োর প্রধান বৈশিষ্ট্য হল প্রচুর বিটা-ক্যারোটিন। শরীর এই উপাদানকে ভিটামিন A-তে রূপান্তর করে। ফলে চোখের স্বাস্থ্য, ত্বক এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখতে পাকা কুমড়ো উপকারী। এতে লুটেইন ও জিয়াজ্যানথিনের মতো অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টও রয়েছে। রান্না করলে কুমড়োর বিটা-ক্যারোটিন শরীর তুলনামূলক সহজে শোষণ করতে পারে।কুমড়োকে ক্যানসারের ওষুধ বা নিশ্চিত প্রতিরোধক বলা যায় না। তবে এতে থাকা ক্যারোটিনয়েড, পলিফেনল, ভিটামিন C ও E এবং খাদ্যআঁশ শরীরকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে ভূমিকা রাখতে পারে। তাই স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে কুমড়ো খাওয়া উপকারী হতে পারে।কুমড়োর বীজেও রয়েছে প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর অসম্পৃক্ত চর্বি, জিঙ্ক, ম্যাগনেসিয়াম ও ভিটামিন E। হৃদ্স্বাস্থ্য ও সামগ্রিক পুষ্টির জন্য এগুলি গুরুত্বপূর্ণ।পুষ্টিগত বিচারে বিটা-ক্যারোটিনের জন্য পাকা কমলা কুমড়ো কিছুটা এগিয়ে থাকলেও কাঁচা কুমড়োকেও খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়ার কারণ নেই। অল্প তেলে রান্না করে, অতিরিক্ত ভাজা বা চিনি এড়িয়ে কুমড়ো খাওয়াই ভালো। সব মিলিয়ে, বিভিন্ন ধরনের সবজি, ডাল ও স্বাস্থ্যকর খাবারের সঙ্গে কুমড়ো রাখলেই মিলবে বেশি সুষম পুষ্টি।

আগস্ট ২৩, ২০২৬
রাজ্য

ওয়াকফ-অশান্তির মামলায় নাম, এবার তৃণমূল ছেড়ে অধীরের হাত ধরে কংগ্রেসে ইনজামুল! কেন এই দলবদল?

ওয়াকফ সংশোধিত আইনকে কেন্দ্র করে অশান্তির ঘটনার পর থেকেই বিতর্কে ছিলেন ধুলিয়ানের পুরপ্রধান ইনজামুল ইসলাম রাজা। এবার সেই ইনজামুলই তৃণমূল ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ দিলেন। রবিবার প্রদেশ কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরীর হাত ধরে কংগ্রেসে যোগ দেন তিনি। তাঁর এই দলবদল ঘিরে মুর্শিদাবাদের রাজনীতিতে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।গত বছর সংশোধিত ওয়াকফ আইনকে কেন্দ্র করে জঙ্গিপুরের সামশেরগঞ্জ, সুতি এবং ধুলিয়ানে অশান্তি ছড়িয়েছিল। সেই ঘটনায় ইনজামুল ইসলাম রাজার বিরুদ্ধে প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। বর্তমানে সেই মামলা চলছে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইনজামুল। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক কারণে তাঁকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।রবিবার ধুলিয়ানের কাঞ্চনতলা ঘাটে কংগ্রেসের যোগদান সভায় বড়সড় দলবদল হয়। ইনজামুল ইসলাম রাজার পাশাপাশি ধুলিয়ান পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান খায়রুল আলম, কাউন্সিলর শরিফ শেখ, ফারহানা খাতুন-সহ একাধিক কাউন্সিলর এবং তৃণমূলের কর্মীরা কংগ্রেসে যোগ দেন। একই দিনে মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের প্রাক্তন সহকারী সভাধিপতি ওবায়দুর রহমানও কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন।ইনজামুলের দলবদলকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিজেপির দক্ষিণ মালদহ সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতি মিলন ঘোষ কটাক্ষ করে দাবি করেন, তৃণমূলের দুর্নীতি থেকে বাঁচতেই অনেকে দলবদল করছেন। সামশেরগঞ্জের অশান্তিতে যাঁদের নাম উঠেছিল, তাঁরাও নিজেদের বাঁচাতে দল পরিবর্তন করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে দলবদল করেও তাঁরা আইনি পরিস্থিতি থেকে রেহাই পাবেন না বলেও দাবি করেন বিজেপি নেতা।বিজেপির এই অভিযোগ অবশ্য সরাসরি খারিজ করেছেন ইনজামুল ইসলাম রাজা। তাঁর দাবি, সামশেরগঞ্জের অশান্তির সঙ্গে তাঁর কোনও যোগ ছিল না। রাজনৈতিক কারণে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে। সেই মামলার বিরুদ্ধে তিনি আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর মুর্শিদাবাদে তৃণমূলের এই ভাঙন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। ধুলিয়ান পুরসভার একাধিক জনপ্রতিনিধির একসঙ্গে দলবদল স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে ওয়াকফ-অশান্তির মামলা চলার মধ্যেই ইনজামুলের কংগ্রেসে যোগদান ঘিরে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।এ দিনের যোগদান সভায় উপস্থিত ছিলেন অধীর রঞ্জন চৌধুরী, দক্ষিণ মালদহের সাংসদ ইশা খান চৌধুরী, ফরাক্কার বিধায়ক মনিরুল ইসলাম এবং জঙ্গিপুর মহকুমা কংগ্রেসের সভাপতি আলফাজুদ্দিন বিশ্বাস-সহ জেলা ও ব্লক স্তরের কংগ্রেস নেতৃত্ব।

আগস্ট ২৩, ২০২৬
কলকাতা

হঠাৎ বাংলায় এত বড় বিনিয়োগ! জাহাজ শিল্পে পাঁচ প্রকল্পের সূচনায় বাড়ল আশার আলো

পশ্চিমবঙ্গে জাহাজ নির্মাণ এবং প্রতিরক্ষা শিল্পের পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বড় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্সের ভবনে পাঁচটি সম্প্রসারণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। এই পাঁচটি প্রকল্পে মোট ৩৪০৪ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।এই উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে রাইচক CPR, টিম্বার পন্ট শিপবিল্ডিং ফ্যাসিলিটি, দামোদর শিপবিল্ডিং ফ্যাসিলিটি, রেডিয়াল ফোরজিং প্ল্যান্ট এবং ৩০০০ টন ওপেন-ডাই ফোরজিং প্রেস প্রকল্প। জাহাজ নির্মাণের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা উৎপাদনের ক্ষেত্রেও এই প্রকল্পগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।অনুষ্ঠানে বাংলায় বিনিয়োগ আনার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের ভূমিকার প্রশংসা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, বাংলায় শিল্প গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় জমি, দক্ষ মানবসম্পদ, পরিকাঠামো এবং কাঁচামাল রয়েছে। এতদিন এই সম্ভাবনাকে সঠিকভাবে কাজে লাগানো হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার একসঙ্গে কাজ করলে বাংলায় আরও বড় বিনিয়োগ আসতে পারে বলে বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, নতুন সরকারের আমলে কেন্দ্র ও রাজ্যের সমন্বয়ের ফলে উন্নয়নের গতি আরও বাড়ছে।সীমান্ত সুরক্ষার প্রসঙ্গও উঠে আসে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর জন্য জমি দেওয়া কোনও রাজনৈতিক বিষয় নয়, বরং রাজ্য সরকারের দায়িত্ব বলেই মন্তব্য করেন তিনি। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সীমান্তরক্ষী বাহিনীর জন্য প্রয়োজনীয় জমির প্রায় ৯০ শতাংশ হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা জনগণনা সংক্রান্ত কাজও ফের শুরু হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। একইসঙ্গে রাজ্যে বেকারত্ব কমাতে শিল্পায়ন এবং বড় বিনিয়োগের উপর জোর দেওয়ার কথা বলেন তিনি।গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্সের সম্প্রসারণের ক্ষেত্রেও রাজ্য সরকার জমি এবং পরিকাঠামো সংক্রান্ত বিষয়ে সহযোগিতা করবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। ৩৪০৪ কোটি টাকার এই বিনিয়োগ দিয়েই উদ্যোগ শেষ নয়, আগামী দিনে বাংলায় আরও বড় বিনিয়োগ আসতে পারে বলেও আশা প্রকাশ করা হয়েছে।জাহাজ নির্মাণ এবং প্রতিরক্ষা উৎপাদনের পাশাপাশি এই ধরনের শিল্প প্রকল্পের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। বাংলাকে ফের দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ বলে বার্তা দেওয়া হয়েছে।

আগস্ট ২৩, ২০২৬
কলকাতা

মহাকাশে বদলে যাচ্ছে ভারতের ছবি! স্টার্টআপ প্রধানদের সঙ্গে বৈঠকে কী বললেন মোদী?

জাতীয় মহাকাশ দিবসে দেশের মহাকাশ ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রবিবার দেশের প্রথম সারির মহাকাশ স্টার্টআপগুলির প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। বৈঠকে ভারতের মহাকাশ ক্ষেত্রে স্টার্টআপগুলির উদ্যম, উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং নতুন ভাবনার প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবন আরও সহজ করতে মহাকাশ প্রযুক্তির নতুন ব্যবহার খুঁজে বার করার পরামর্শ দেন তিনি।মোদী বলেন, মহাকাশ প্রযুক্তিকে শুধু প্রচলিত কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। মানুষের দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানেও এই প্রযুক্তিকে কাজে লাগাতে হবে। প্রযুক্তির মাধ্যমে মানুষের জীবনযাত্রার মান কীভাবে আরও উন্নত করা যায়, সেই বিষয়ে নতুন করে ভাবার পরামর্শ দেন তিনি।ভারতের মহাকাশ ক্ষেত্রের ভবিষ্যৎ নিয়েও স্টার্টআপ প্রধানদের সঙ্গে আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁদের আত্মবিশ্বাস এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার প্রশংসা করে তিনি সরকারি নীতির ধারাবাহিকতার উপর জোর দেন। তাঁর বক্তব্য, সরকারের সিদ্ধান্তের উপর মহাকাশ ক্ষেত্রে কাজ করা সংস্থাগুলির যে আস্থা তৈরি হয়েছে, তা ধরে রাখা অত্যন্ত জরুরি।বিশ্বের মহাকাশ অর্থনীতিতে ভারতকে আরও বড় জায়গায় নিয়ে যাওয়ার কথাও বলেন মোদী। তাঁর আশা, আগামী দিনে মহাকাশ ক্ষেত্রে কোনও বড় প্রযুক্তিগত সাফল্য এলেই বিশ্বের নজর ভারতের স্টার্টআপগুলির দিকে ঘুরবে। ভারতীয় সংস্থাগুলি যেন বিশ্ব মহাকাশ ক্ষেত্রে নিজেদের শক্তিশালী পরিচয় তৈরি করতে পারে, সেই লক্ষ্যেই এগোতে হবে বলে বার্তা দেন তিনি।মহাকাশ স্টার্টআপ, মহাকাশ সংস্থা এবং বৃহত্তর প্রযুক্তি ক্ষেত্রের মধ্যে আরও বেশি সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বিদেশে কাজ করা ভারতীয় দক্ষ পেশাদারদের দেশে ফিরে আসার প্রবণতাকেও ইতিবাচক বলে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর মতে, ভারতে এমন পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন, যাতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের দক্ষ মানুষ মহাকাশ ক্ষেত্রে কেরিয়ার গড়ার জন্য ভারতকে অন্যতম সেরা ঠিকানা হিসেবে বেছে নেন।মোদীর বক্তব্য, ভারতীয় মহাকাশ স্টার্টআপগুলির দ্রুত বৃদ্ধি আগামী দিনে বিশ্বের প্রতিভাবান পেশাদারদের আকৃষ্ট করতে পারে। শুধু দেশের প্রতিভা নয়, গোটা বিশ্বের দক্ষ মানুষকে ভারতের মহাকাশ ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত করার লক্ষ্যেই এগোতে হবে। জাতীয় মহাকাশ দিবসে প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তায় মহাকাশ ক্ষেত্রে ভারতের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

আগস্ট ২৩, ২০২৬
রাজ্য

আবার নিম্নচাপের চোখরাঙানি! রবিবার থেকে মঙ্গলবার ভিজবে বাংলা, কোথায় ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা?

রবিবার থেকেই বাংলার আবহাওয়ায় ফের বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। সকাল থেকেই আকাশ মেঘলা। উপকূলের দিকে ইতিমধ্যেই মেঘ ঢুকতে শুরু করেছে। ফলে রবিবার থেকে বৃষ্টি বাড়তে পারে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টি চলতে পারে।গত সপ্তাহে নিম্নচাপের জেরে প্রবল বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হয়েছিল দক্ষিণবঙ্গ। কলকাতা-সহ প্রায় সব জেলাতেই বৃষ্টি হয়েছিল। বহু জায়গায় জল জমে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ে। এর মধ্যেই বঙ্গোপসাগরে ফের একটি নিম্নচাপ তৈরি হয়েছে। অগস্ট মাসে এটি তৃতীয় নিম্নচাপ বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। নতুন এই নিম্নচাপের প্রভাবে আগামী কয়েক দিন রাজ্যে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে পারে।আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, নতুন নিম্নচাপটি বাংলা ও ওড়িশা উপকূলের কাছে অবস্থান করছে। এর প্রভাবে উপকূলবর্তী এবং পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে বৃষ্টি বেশি হতে পারে। কলকাতায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।রবিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে দুই মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামেও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সোমবার ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া এবং বাঁকুড়ায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। তবে নিম্নচাপের মূল প্রভাব পড়তে পারে ওড়িশা এবং ছত্তীসগঢ়ে।দক্ষিণবঙ্গের পর মঙ্গলবার থেকে উত্তরবঙ্গেও ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি হয়েছে। দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার এবং জলপাইগুড়িতে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। বুধবার কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার এবং জলপাইগুড়িতে ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা রয়েছে।বৃহস্পতিবারও রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। ফলে সপ্তাহের শুরু থেকেই ফের বৃষ্টির দাপট দেখা দিতে পারে বাংলায়। নতুন নিম্নচাপের গতিপথ এবং শক্তি বদলালে বৃষ্টির পূর্বাভাসেও পরিবর্তন হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।

আগস্ট ২৩, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

ব্রাজিল ম্যাচ বয়কটের ডাক বাইচুংয়ের, ‘স্থানীয় রাজনীতি’ বলে উড়িয়ে দিল ব্রাজিল! যুবভারতীর ম্যাচ ঘিরে তুঙ্গে বিতর্ক

৩ অক্টোবর কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ভারত বনাম ব্রাজিলের বহু প্রতীক্ষিত ফুটবল ম্যাচ। বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবল দলের বিরুদ্ধে ভারতের মাঠে নামার খবরে ইতিমধ্যেই ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে উন্মাদনা তৈরি হয়েছে। কিন্তু ম্যাচ যত এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে বিতর্কও। একদিকে এই ম্যাচ আয়োজনকে ঘিরে বিপুল খরচ এবং দেশের ফুটবল পরিকাঠামো নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, অন্যদিকে এর জন্য ঘরোয়া ফুটবল সূচি ও জাতীয় দলের পরিকল্পনায় প্রভাব পড়ছে বলে অভিযোগ।এই পরিস্থিতিতেই ভারতীয় ফুটবলের কিংবদন্তি বাইচুং ভুটিয়া সরাসরি ব্রাজিল ম্যাচ বয়কটের ডাক দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, একটি মাত্র প্রদর্শনী ম্যাচের পিছনে বিপুল অর্থ খরচ না করে সেই টাকা দীর্ঘমেয়াদি ভাবে ভারতীয় ফুটবলের উন্নয়নে বিনিয়োগ করা উচিত। বাইচুংয়ের মতে, এমন ম্যাচের পিছনে অর্থ ব্যয় করলে তা দেশের ফুটবলের ভবিষ্যৎকে এগিয়ে নেওয়ার বদলে উল্টে পিছিয়ে দিতে পারে।বাইচুংয়ের কথায়, ম্যাচ বয়কট করলে একটি স্পষ্ট বার্তা যাবে। ভবিষ্যতে এই ধরনের বড় ম্যাচ আয়োজনের আগে ফেডারেশনকে আরও সতর্ক হয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।বিপুল খরচ, প্রশ্নের মুখে ঘরোয়া ফুটবলকলকাতায় ব্রাজিলকে নিয়ে ম্যাচ আয়োজন করতে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ কোটি টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে। ম্যাচের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ব্রাজিলের পর্যবেক্ষক দল যুবভারতী পরিদর্শনও করেছে। স্টেডিয়ামের পরিকাঠামো নিয়ে তাদের তরফে কিছু উদ্বেগের কথাও উঠে এসেছে।এর পাশাপাশি সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে ভারতীয় ফুটবলের ঘরোয়া কাঠামো নিয়ে। ব্রাজিল ম্যাচকে কেন্দ্র করে আইএসএলের সূচি পিছিয়ে যাওয়ার জল্পনা তৈরি হয়েছে। ফলে ক্লাবগুলির প্রস্তুতি এবং গোটা মরসুমের পরিকল্পনা নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।অন্যদিকে ফিফা এশিয়ান কাপের বিষয়টিও নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। একই সময়ে আন্তর্জাতিক ম্যাচ এবং অন্যান্য সূচির সংঘাতের কারণে ভারত এশিয়ান কাপ থেকে নাম প্রত্যাহার করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। যদিও এই বিষয়ে ব্রাজিল ফুটবল কর্তৃপক্ষের তরফে কোনও নিশ্চিত তথ্য তাদের কাছে নেই বলেই জানানো হয়েছে।বাইচুংয়ের প্রশ্নএক ম্যাচের জন্য এত টাকা কেন?বাইচুং ভুটিয়ার যুক্তি, ব্রাজিলের মতো দলের বিরুদ্ধে ৯০ মিনিটের ম্যাচ নিঃসন্দেহে ভারতীয় ফুটবলপ্রেমীদের কাছে বড় আকর্ষণ। কিন্তু সেই আবেগের বাইরে গিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা ভাবতে হবে।তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, যদি এত বড় অঙ্কের অর্থ হাতে থাকে, তবে তা আগামী কয়েক বছরের জন্য দেশের ক্রীড়া পরিকাঠামো, প্রতিভা অন্বেষণ, প্রশিক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় তৈরিতে বিনিয়োগ করা যায় না কেন? তাঁর মতে, সেই বিনিয়োগ থেকে ভবিষ্যতে কমনওয়েলথ গেমস বা অলিম্পিক্সের মতো মঞ্চে পদক পাওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে।এবার পাল্টা বার্তা ব্রাজিলেরভারতীয় ফুটবল মহলে যখন ম্যাচ বয়কট নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে, তখন ব্রাজিলের ফুটবল কর্তাদের বক্তব্য পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের অভ্যন্তরে এই ম্যাচ নিয়ে কী ধরনের বিতর্ক চলছে, তা নিয়ে ব্রাজিল কর্তৃপক্ষ বিশেষ চিন্তিত নয়। ম্যাচের সূচি পরিবর্তনেরও কোনও সম্ভাবনা নেই।বয়কট নিয়ে ব্রাজিলের তরফে বিশেষ মাথাব্যথা নেই বলেও ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। বরং এই ধরনের বক্তব্যকে স্থানীয় রাজনৈতিক বা অভ্যন্তরীণ বিতর্কের অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে বলে সূত্রের দাবি।এশিয়ান কাপ থেকে ভারতের নাম প্রত্যাহারের বিষয়েও ব্রাজিল কর্তৃপক্ষের কাছে কোনও স্পষ্ট তথ্য নেই বলে জানা গিয়েছে। ফলে ভারতের অভ্যন্তরীণ ফুটবল পরিস্থিতির সঙ্গে ব্রাজিলের কলকাতা সফরকে যুক্ত করার কোনও কারণ দেখছে না পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।ভারত আমাদের সমর্থন করেছে, বলছে ব্রাজিলব্রাজিল দলের পক্ষ থেকে রড্রিগো কেতানোও এই ম্যাচের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর বক্তব্যের মূল সুরভারত বিশ্বকাপের সময়ে ব্রাজিলকে যে সমর্থন দিয়েছে, তার জন্য তারা কৃতজ্ঞ। কলকাতায় ম্যাচ আয়োজনকে তাই শুধু বাণিজ্যিক বা প্রদর্শনী ম্যাচ হিসেবে দেখছে না ব্রাজিল।ব্রাজিলের তরফে জানানো হয়েছে, এই ম্যাচে তারা নিজেদের সেরা ফুটবল উপহার দিতে চায়। অর্থাৎ ভারতের মাটিতে এসে শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিকতা সারাই তাদের লক্ষ্য নয়; বরং ভালো পারফরম্যান্স করে ম্যাচটিকে স্মরণীয় করে তুলতে চায় তারা।স্টিমাচের কটাক্ষেও বাড়ছে বিতর্কব্রাজিল ম্যাচ ঘিরে বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন ভারতের প্রাক্তন কোচ ইগর স্টিমাচও। তাঁর বক্তব্য, দেশের ঘরোয়া লিগ এবং জাতীয় দলের পরিকল্পনার মধ্যে এখনও প্রয়োজনীয় সামঞ্জস্য তৈরি হয়নি। সেই সমস্যা সমাধান না করে ব্রাজিল বা আর্জেন্টিনার মতো দলের বিরুদ্ধে ম্যাচ আয়োজন করা হলে তা ভারতীয় ফুটবলের জন্য উল্টে অস্বস্তির কারণ হতে পারে।অর্থাৎ একদিকে বাইচুংয়ের আর্থিক অগ্রাধিকারের প্রশ্ন, অন্যদিকে স্টিমাচের ঘরোয়া ফুটবলের কাঠামো নিয়ে অভিযোগসব মিলিয়ে ৩ অক্টোবরের ম্যাচ এখন শুধুমাত্র একটি ফুটবল ম্যাচে সীমাবদ্ধ নেই।ম্যাচ হবে, বিতর্কও চলবে?একদিকে ব্রাজিলের মতো দলের বিরুদ্ধে যুবভারতীতে ভারতকে দেখার স্বপ্নে ফুটবলপ্রেমীরা উত্তেজিত। অন্যদিকে দেশের ফুটবলের ভবিষ্যৎ, বিপুল খরচ, আইএসএলের সূচি এবং জাতীয় দলের পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন প্রাক্তন ফুটবলার ও কোচেরা।ব্রাজিলের তরফে অবশ্য এখনও পর্যন্ত বার্তা স্পষ্টতারা ম্যাচ খেলতে প্রস্তুত এবং সূচি বদলের কোনও পরিকল্পনা নেই। ফলে ৩ অক্টোবর যুবভারতীতে ভারত-ব্রাজিল ম্যাচ ঘিরে উত্তেজনা যেমন বাড়ছে, তেমনই তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বিতর্কও। এখন দেখার, শেষ পর্যন্ত মাঠের ৯০ মিনিট কি সমস্ত বিতর্ককে ছাপিয়ে যেতে পারে, নাকি ম্যাচ শেষ হওয়ার পরও ভারতীয় ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে এই প্রশ্নগুলি আরও জোরালো হয়ে ওঠে।

আগস্ট ২২, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

দুই দশকের ডুরান্ডের আক্ষেপ ঘোচানোর লড়াই, ডার্বির আগে হাবাসের মন্ত্র—‘আবেগ নয়, বুদ্ধিই শেষ কথা’

দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে অপেক্ষা। শেষ বার ২০০৪ সালে ডুরান্ড কাপের ফাইনালে মোহনবাগানকে ২-১ গোলে হারিয়ে ট্রফি জিতেছিল ইস্টবেঙ্গল। তারপর থেকে সময় গড়িয়েছে, বদলেছে দল, কোচ, ফুটবলারকিন্তু লাল-হলুদ শিবিরের ডুরান্ড-খরা কাটেনি। ২২ বছর পর সেই আক্ষেপ মুছে ফেলার সামনে দাঁড়িয়ে ইস্টবেঙ্গল। আর সেই লড়াইয়ের মঞ্চে প্রতিপক্ষ আবারও চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগান।রবিবারের ডুরান্ড ফাইনাল তাই শুধু একটি ট্রফির লড়াই নয়। একদিকে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটানোর তাগিদ, অন্যদিকে ডার্বির অতিরিক্ত উত্তেজনাসব মিলিয়ে ম্যাচের আবহ ইতিমধ্যেই তুঙ্গে। তবে এই আবেগকেই নিয়ন্ত্রণে রাখাকে সাফল্যের অন্যতম চাবিকাঠি বলে মনে করছেন ইস্টবেঙ্গল কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাস।হাবাসের কাছে ডার্বি মানেই শুধু আবেগের লড়াই নয়, বরং মাথা ঠান্ডা রেখে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরীক্ষা। সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, কলকাতার ফুটবলপ্রেমীদের কাছে ম্যাচটির গুরুত্ব যতই বেশি হোক, তাঁর দলকে মাঠে নেমে এটিকে একটি সাধারণ ম্যাচের মতোই খেলতে হবে।হাবাসের কথায়, ডার্বিতে আবেগ থাকবেই। কিন্তু সেই আবেগ যদি খেলোয়াড়দের নিয়ন্ত্রণ করে, তাহলে কৌশল এবং পরিকল্পনা ভেস্তে যেতে পারে। তাই তাঁর লক্ষ্য আবেগের মাত্রা ১০০ শতাংশ থেকে নামিয়ে প্রায় ২৫ শতাংশে নিয়ে আসা। ম্যাচের ৯০ মিনিটে কোন মুহূর্তে ঝুঁকি নিতে হবে, কখন ধৈর্য ধরতে হবে এবং কখন কৌশল বদলাতে হবেসেই বুদ্ধিমত্তাই পার্থক্য গড়ে দিতে পারে বলে মনে করছেন তিনি।ফাইনালের আগে ইস্টবেঙ্গলের জন্য বড় ধাক্কা পিভি বিষ্ণুর অনুপস্থিতি। সেমিফাইনালের মতো ফাইনালেও মাঠে নামতে পারবেন না দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আক্রমণভাগের ফুটবলার। চলতি ডুরান্ডে দুরন্ত ছন্দে ছিলেন বিষ্ণু। সিআইএসএফের বিরুদ্ধে ইস্টবেঙ্গলের ৮-০ জয়ের ম্যাচে হ্যাটট্রিক করে নজর কেড়েছিলেন তিনি। তাঁর গতি এবং আক্রমণাত্মক ফুটবল প্রতিপক্ষের রক্ষণকে একাধিক বার সমস্যায় ফেলেছে।বিষ্ণুকে না পাওয়ায় স্বাভাবিক ভাবেই পরিকল্পনায় কিছুটা পরিবর্তন আনতে হবে হাবাসকে। তাঁর জায়গায় প্রথম একাদশে বিপিন সিংয়ের সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিকল্প হিসেবে ভাবনায় রয়েছেন জেসিন টিকে। ডুরান্ডেই সিআইএসএফের বিরুদ্ধে জোড়া গোল করে নিজের দাবিও জোরালো করেছেন তিনি।শুধু বিষ্ণু নন, ফাইনালে এফিয়ংকেও পাওয়া যাবে না বলে জানিয়েছেন হাবাস। বিদেশি স্ট্রাইকার এবং ডিফেন্ডার ছাড়া এমন গুরুত্বপূর্ণ ডার্বিতে নামা যে সহজ নয়, তা স্বীকার করেছেন ইস্টবেঙ্গল কোচ। তবে সমস্যাকে সামনে রেখে অজুহাত তৈরি করতে তিনি একেবারেই রাজি নন।হাবাসের বক্তব্য, রেফারিং, প্রতিপক্ষ কিংবা দলের কোনও নির্দিষ্ট ফুটবলার না থাকার মতো বিষয়কে সামনে রেখে ম্যাচের আগে অজুহাত খোঁজা অর্থহীন। মাঠে যে ফুটবলাররা থাকবেন, তাঁদের নিয়েই সেরাটা দিতে হবে। তাঁর বিশ্বাস, প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও ইস্টবেঙ্গল নিজেদের সেরা ফুটবল খেলতে সক্ষম।অন্যদিকে, মোহনবাগানকে যথেষ্ট সমীহ করছেন লাল-হলুদ কোচ। সবুজ-মেরুন দলের প্রত্যেক ফুটবলারকেই বিপজ্জনক বলে মনে করছেন তিনি। বিশেষ করে গোলরক্ষক বিশাল কাইথের প্রশংসা করেছেন হাবাস। তবে নিজের দলের গোলরক্ষক প্রভসুখন সিং গিলের উপরও তাঁর আস্থা অটুট। ফলে ফাইনালে দুই গোলরক্ষকের পারফরম্যান্সও ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।ডার্বির উত্তাপের মধ্যেও অবশ্য প্রস্তুতির ধরন বদলে ফেলেছে ইস্টবেঙ্গল। ফাইনালের আগে মাঠের অনুশীলন বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দল। হাবাসের মতে, এই মুহূর্তে আরও একটি অনুশীলনের চেয়ে ফুটবলারদের পর্যাপ্ত বিশ্রাম দেওয়া বেশি জরুরি। গত কয়েক দিনে ম্যাচের প্রস্তুতি এবং রিকভারির জন্য যথেষ্ট সময় পাওয়া গিয়েছে। তাই ফুটবলারদের শরীরকে তরতাজা রাখাই এখন তাঁর অগ্রাধিকার।মাঠের বদলে হোটেলেই চলবে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি। জিমে অনুশীলন, ফুটবলারদের কাছ থেকে আরও নিবিড় পর্যবেক্ষণ এবং ইনডোর সেশনের মাধ্যমে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সারবে দল।সব মিলিয়ে রবিবারের ফাইনাল ইস্টবেঙ্গলের কাছে একাধিক কারণে বিশেষ। ২২ বছরের ডুরান্ড-খরা কাটানোর হাতছানি, সামনে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগান, আবার ২০০৪ সালের ফাইনালের স্মৃতিও ফিরছে। কিন্তু ইতিহাস কিংবা আবেগ নিয়ে বেশি ভাবতে চান না হাবাস। তাঁর কাছে হিসাবটা একেবারেই সরল৯০ মিনিট মাথা ঠান্ডা রেখে খেলতে হবে, সঠিক মুহূর্তে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং কোনও অজুহাত ছাড়াই ট্রফির জন্য লড়াই করতে হবে।২২ বছর আগের সেই জয়ের স্মৃতি কি আবারও লাল-হলুদ সমর্থকদের মুখে হাসি ফোটাবে? নাকি ডার্বির মঞ্চেই ইস্টবেঙ্গলের দীর্ঘ অপেক্ষা আরও বাড়বেউত্তর মিলবে রবিবারের মহারণে।

আগস্ট ২২, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal